বায়ােলজিক্যাল স্পিসিস কনসেপ্ট

0
260

বায়ােলজিক্যাল স্পিসিস কনসেপ্ট: প্রজাতি (Species) : প্রজাতি বলতে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের সর্বাধিক মিল সম্পন্ন একদল জীবকে বােঝায়। যেমনআম গাছগুলাে একত্রে আম প্রজাতি (Mangifera indica) গঠন করে। বায়ােলজিক্যাল স্পিসিস কনসেপ্ট

অনুযায়ী একই প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত দুটি জীব তাদের মধ্যে যৌন মিলনের মাধ্যমে উর্বর সন্তান উৎপাদনে সক্ষম। উদ্ভিদের ক্ষেত্রে

দুটি মিলসম্পন্ন জীবের মধ্যে ক্রস করে উর্বর সন্তান উৎপাদনের পরীক্ষা করা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার বলে শ্রেণিবিন্যাসবিদগণ কেবল বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে প্রজাতি নির্ণয় করতে চান। প্রজাতি নির্ণয়ে জীবের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন অংশের বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নেয়া হয়।

যেমন- পরাগরেণু, ক্রোমােসােম, ডিএনএ (DNA), আরএনএ (RNA) ইত্যাদির বৈশিষ্ট্য। প্রজাতির বৈশিষ্ট্য : প্রজাতির বৈশিষ্ট্যগুলাে নিচে দেয়া হলাে১। বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যে সর্বাধিক মিলসম্পন্ন একদল জীব, ২। একই প্রজাতিভুক্ত জীব একটির

সাথে অপরটি ইন্টারব্রিড করে উর্বর সন্তান উৎপাদন করতে পারে কিন্তু অন্য |

প্রজাতিভুক্ত কোন জীবের সাথে ইন্টারব্রিড করে উর্বর সন্তান উৎপাদনে অক্ষম।

৩। একই প্রজাতিভুক্ত বিভিন্ন জীবের মধ্যে বৈশিষ্ট্যের পার্থক্য থাকলে তা হবে নিরবিচ্ছিন্ন।

৪। একই প্রজাতিভুক্ত জীবসমূহ একই পূর্ব পুরুষ থেকে উদ্ভুত।

জীবগােষ্ঠী (Population) : একটি নির্দিষ্ট স্থানে একই সময়ে বসবাসকারী একই প্রজাতির একদল জীবকে জীবগােষ্ঠী বলা হয়।

একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে বসবাসকারী ও সম্মিলিতভাবে পরস্পরের উপর ক্রিয়াশীল সব প্রজাতির সব জীবগােষ্ঠী মিলে গঠন করে

একটি জীব সম্প্রদায়। সব জীবের সব জীব সম্প্রদায় মিলিতভাবে তৈরি করে জীবমন্ডল। জীবগােষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য : জীবগােষ্ঠীর বৈশিষ্ট্যগুলাে নিচে দেয়া হলাে১। ঘনত্ব বা বিস্তার-

ঘনত্ব। যে কোনাে প্রজাতির জীবগােষ্ঠীর ঘনত্ব ভিন্ন পরিবেশে ভিন্ন হয়। আবার একই অবস্থানের বিভিন্ন ঋতুতে বা ভিন্ন ভিন্ন বছরে

কোন প্রজাতির জীবগােষ্ঠীর ঘনত্ব ভিন্নতর হয়। কোন জীবগােষ্ঠী বণ্টনের ভৌগােলিক বিস্তারের সীমাকে বলা হয় ঐ জীবগােষ্ঠীর

বিস্তার পরিসর। বিস্তার পরিসরে কোন প্রজাতির বিস্তার সমপ্রকৃতির হয়,পৃথিবীর

অঞ্চলভেদেও এ পরিবর্তন হয়। জন্ম ও মৃত্যুর কারণে এ ধরনের পরিবর্তন হয়। জন্ম ও মৃত্যু হার সমান হলে জীবগােষ্ঠীর বৃদ্ধি শূন্য হয়।

বায়ােলজিক্যাল স্পিসিস কনসেপ্ট

৩। সংখ্যাবৃদ্ধি শক্তি- প্রতিটি জীবগােষ্ঠীর একটি প্রচ্ছন্ন সংখ্যাবৃদ্ধি শক্তি থাকে। সবচেয়ে সুবিধাজনক পরিবেশে কোন

পপুলেশন সর্বাধিক কতটা বৃদ্ধি পেতে পারে তাকে বলা হয় প্রচ্ছন্ন সংখ্যাবৃদ্ধি শক্তি। বিভিন্ন প্রজাতির এ বর্ধনশক্তি ভিন্নতর হয়। দেখা গেছে একটি ব্যাকটেরিয়াম কোষ দশ ঘণ্টায় সংখ্যায় বৃদ্ধি পেয়ে ১০৭,৩৭,৪১,৮২৪ টি হয়।

উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদ ও প্রাণীর সংখ্যাবৃদ্ধির শক্তি তুলনামুলকভাবে অনেক কম।

৪। সীমিতকরণ শক্তি প্রকৃতিই জীবগােষ্ঠীর বৃদ্ধিকে সীমিত রাখে।

কাজেই কোন জীবগােষ্ঠী তার প্রচ্ছন্ন সংখ্যাবৃদ্ধি ও

শক্তিকে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য কাজে লাগাতে পারে না।

পরিবেশীয় প্রভাবকসমূহ জীবগােষ্ঠীর বৃদ্ধিকে সীমিত রাখে। বিবর্তনের কার্যক্রম জীবগােষ্ঠীতেই আরম্ভ হয়।

পরিবেশীয় নিয়ামক যেমন- তাপ, আলাে, বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত ইত্যাদি জীবগােষ্ঠীর বৈশিষ্ট্যগুলাে প্রভাবিত করে। জীব সম্প্রদায়

(Biotic Community) : জীব সম্প্রদায় হলাে একটি নির্দিষ্ট স্থানে এবং একই পরিবেশে বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণীসমূহের প্রাকৃতিক

সমাবেশ যেখানে প্রত্যেকে নিজেদের মধ্যে একে অন্যের প্রতি সহনশীল, নির্ভরশীল এবং পরস্পর ক্রিয়াশীল। অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট

স্থানে জীবসমূহের সমষ্টিগত অবস্থানকে জীব সম্প্রদায় বলা হয়। একটি বড় মরুভূমি বা তৃণভূমির যেমনি নির্দিষ্ট জীব সম্প্রদায়

থাকে, তেমনি আবার ছােট একটি ডােবারও একটি জীব সম্প্রদায় থাকে।

বায়ােলজিক্যাল স্পিসিস কনসেপ্ট

একই বসতিতে বিরাজমান উদ্ভিদ সম্প্রদায় এবং প্রাণী

সম্প্রদায় একত্রে জীব সম্প্রদায় গঠন করে। জীব সম্প্রদায়ের সাথে এদের পরিবেশ মিলে ইকোসিস্টেম তৈরি হয়। জীব সম্প্রদায়ের

বৈশিষ্ট্য : জীব সম্প্রদায়ে কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়। যথাপ্রজাতির বিভিন্নতা- একটি জীব সম্প্রদায়ে উদ্ভিদ ও প্রাণীর

বিভিন্ন প্রজাতি বসবাস করায় প্রজাতি বৈচিত্র্যের দিক দিয়ে এটা বেশ সমৃদ্ধ। বৃদ্ধির ধরন ও গঠন- একটি জীব সম্প্রদায়ে

বসবাসকারী বিভিন্ন জীবের বৃদ্ধি, ধরন ও গঠন বিভিন্ন রকম হয়। যথাউদ্ভিদের ক্ষেত্রে বৃক্ষ, গুল্ম, তৃণ, মস ইত্যাদি। এসব পর্যায়

সম্প্রদায়ে উল্লম্ব স্তরায়নের সৃষ্টি করে। আধিপত্য- জীব সম্প্রদায়ের প্রকৃতি নির্ণয়ে সম্প্রদায়ভুক্ত সব প্রজাতি সমান ভূমিকা পালন

করে না। সম্প্রদায়ভুক্ত বহু প্রজাতির মধ্যে মাত্র কয়েকটি প্রজাতি এদের সংখ্যা, আকার ও অন্যান্য কর্মকান্ড দ্বারা পুরাে সম্প্রদায়ের উপর আধিপত্য বিস্তার করে।

স্তরবিন্যাস- প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট প্রতিটি সম্প্রদায়ের মধ্যে তাদের অবস্থান অনুসারে লম্বালম্বি স্তরবিন্যাস থাকে।

যথা- একটি বন সম্প্রদায়ে ওভারস্টোরি স্তর, আন্ডারস্টোরি স্তর, ট্রান্সগ্রেসিভ স্তর, চারা স্তর এবং ভূসংলগ্ন স্তর দেখা যায়।

ক্রমাগমন- সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্রমাগমন একটি চলমান প্রক্রিয়া।

কারণ প্রতিটি সম্প্রদায়ের নিজস্ব ক্রমবিকাশ বা ধারা রয়েছে। খাদ্য স্তর গঠন ও পুষ্টির স্বয়ংসম্পূর্ণতা- একটি সম্প্রদায়ভূক্ত জীব প্রজাতিসমূহের মধ্যে একটি খাদ্য শৃঙ্খল ও এ প্রবাহ নিশ্চিত হয়।

এতে উৎপাদনকারী, তৃণভােজী, মাংসভােজী, পঁচনকারী সব ধরনের জীবেরই সমাবেশ ঘটে সময়ের সাথে সম্প্রদায়ের পরিবর্তন- সময় ও ঋতু পরিবর্তনের সাথে সম্প্রদায়ভূক্ত জীব প্রজাতিরও পরিবর্তন বিভিন্ন ঋতুতে বিভিন্ন জীব প্রজাতির সংখ্যার হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে। শীত, বর্ষা ও বসন্ত ঋতুতে এ পরিবর্তন লক্ষণ

বায়ােলজিক্যাল স্পিসিস কনসেপ্ট

বায়ােলজিক্যাল স্পিসিস কনসেপ্ট

আরো দেখুন:

এসকেএস ফাউন্ডেশন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২১

ওয়েভ ফাউন্ডেশন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২১ | WAVE Foundation

দিশা এনজিও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২১

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here